বাইশ গজের মজাদার স্লেজিং

মুহাম্মদ আশিক সৈকত
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, সকাল ৯:৪২

ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। তবে ক্রিকেট মাঠে স্লেজিং তথা প্রতিপক্ষের মনোবল নড়বড়ে করে দেওয়ার জন্য ছুঁড়ে দেওয়া কিছু কথা মাঠের দ্বৈরথকে বেশ খানিকটা বাড়িয়ে উপভোগ্য করে তোলে। আজ জানবো তেমনি কিছু মজাদার স্লেজিং এর কথা -

 

শচীন টেন্ডুলকার - আব্দুল কাদির

টেন্ডুলকারের বয়স তখন সবে আঠারো। পাকিস্তান সফরের এক টেস্টে টেন্ডুলকার দারুণ ব্যাট করছিলেন। মুস্তাক আহমেদের বলে পর পর দুই ছক্কা মারলেন। ওভার শেষ হলে গ্রেট বোলার আব্দুল কাদির শচীনের সামনে এগিয়ে এসে বললেন- "বাচ্চা বোলার পেয়ে খুব পেটাচ্ছো। পারলে আমার বলে পেটাও দেখি!" ব্যাটিং জিনিয়াস মুখে কিছু বললেন না। পরে আব্দুল কাদিরের করা এক ওভারে ২৮ রান (৬ ০ ৪ ৬ ৬ ৬) তুলে ঠিকই মোক্ষম জবাব দিয়েছিলেন।

 

অর্জুনা রানাতুঙ্গা - ইয়ান হিলি

বেশ ভাল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন রানাতুঙ্গা। একবার টেস্টে গ্লেন ম্যাকগ্রার বলে অনবরত ডিফেন্স করে যাচ্ছিলেন। বোলাররা যেন তার উইকেট নিতেই পারছিলেননা। এমন সময় পেছন থেকে উইকেট কিপার ইয়ান হিলি রানাতুঙ্গাকে শুনিয়ে শুনিয়ে ম্যাকগ্রাকে বলেন, "দেখছনা শরীরটা! গুড লেন্থে একটা মারস চকোলেট বার রেখে দাও এবং এরপর বোলিং কর। দেখবে ও আউট হয়ে যাবে। "

 

পার্থিব প্যাটেল - স্টিভ ওয়াহ

২০০৪ সাল। স্টিভ ওয়াহর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ম্যাচ, প্রতিপক্ষ ভারত। স্টিভ ওয়াহ ব্যাট হাতে যখন ক্রিজে আসেন, উইকেটের পেছনে তখন কিপিং করছিলেন আঠারো বছরের তরুণ পার্থিব প্যাটেল। হঠাৎ পার্থিব স্টিভকে বলে উঠলেন, "আউট হওয়ার আগে শেষবারের মতো তোমার বিখ্যাত স্লগ সুইপ শটটা খেলে নাও।" স্টিভ ওয়াহ গেলেন ভীষণ চটে। মুখের ওপর বলে ফেলেন, " অন্তত একটু সন্মান তো দেখাও! আমি যখন টেস্ট খেলা শুরু করি তখন তুমি ডায়াপার পরতে।" 

 

রবিন স্মিথ - মার্ভ হিউজ

ইংল্যান্ডের রবিন স্মিথ নামে একজন ব্যাটসম্যান ছিলেন। একবার অ্যাশেজে তিনি ব্যাট করছেন, বোলিং করছেন অস্ট্রেলিয়ার মার্ভ হিউজ, যিনি তার লম্বা গোঁফের জন্য বিখ্যাত। তিনি এসে স্মিথ কে তাচ্ছিল্য করে বললেন,"তুমি তো একটুও ব্যাটিং জানো না দেখছি!" স্মিথ তখন কিছু না বলে পরের বলে চার মারলেন। এরপর মার্ভকে বললেন,"শোনো মার্ভ, তুমি আর আমি একটা চমৎকার জুটি হব। আমি তো ব্যাটিং পারিই না, আর তুমিও বোলিংয়ে একদম যাচ্ছেতাই!"

 

জাভেদ মিয়াঁদাদ - মার্ভ হিউজ

পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ একটু ক্ষ্যাপাটে প্রকৃতির ছিলেন। বোলাররা তাকে কি স্লেজিং করবে, উল্টো তিনিই ক্রিজে এসে বোলারদের পাল্টা স্লেজিং করতেন। সেবার অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলা।  কি ভেবে মিয়াঁদাদ বোলার মার্ভ হিউজের কাছে গিয়ে বললেন, "তোমার ক্রিকেট খেলা উচিত নয়।তোমাকে মোটা বাস কন্ট্রাক্টরের মতো লাগছে।" হিউজ কিছু বললেন না। পরের বলে মিয়াঁদাদের উইকেট তুলে নিলেন এবং সামনে গিয়ে বললেন, "টিকিট প্লিজ।"

 

এডো ব্রান্ডস - গ্লেন ম্যাকগ্রা

জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার এডো ব্রান্ডসের সাথে অস্ট্রেলিয়ান পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রার সহজ সম্পর্ক ছিলনা। একবার ম্যাচের মাঝখানে ম্যাকগ্রা ব্রান্ডসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "তুমি এত মোটা কেন?" উত্তরে তিনি যা বলেন ম্যাকগ্রা তাতে একদম জব্দ হয়ে যান। ব্রান্ডসের উত্তর ছিল, "কি করবো বল, তোমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হবার পর সে শুধু বিস্কুট খেতে দেয়।" 

 

শচীন টেন্ডুলকার - এলান ডোনাল্ড - ডোড্ডা গণেশ

১৯৯৬ সাল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট দলে ডাক পান কর্ণাটকের মিডিয়াম পেসার ডোড্ডা গণেশ। ভারতীয় ইনিংসের ৯ম উইকেট পতনের পর  ক্রিজে আসেন গণেশ, অপর প্রান্তে ছিলেন টেন্ডুলকার। গণেশ অনেকক্ষণ ধরে ডিফেন্স করে যাচ্ছিলেন। এটা দেখে বোলার এলান ডোনাল্ড তাকে ইংরেজিতে স্লেজিং করা শুরু করলেন। স্লেজিংয়েও কোন কাজ হচ্ছিলনা। এক পর্যায়ে টেন্ডুলকার ডোনাল্ডের সামনে গিয়ে বললেন, " বৃথাই চেষ্টা করছো। ও কান্নাড়ি ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা জানেনা। আমারই ওর সাথে যোগাযোগ স্থাপন  করতে কষ্ট হচ্ছে।"

 

সৌরভ গাঙ্গুলি - খালেদ মাসুদ পাইলট 

একবার টেস্টে পাইলট অনেকক্ষণ ধরে বল ঠেকিয়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে সৌরভ গাঙ্গুলি বলে উঠেন, "তোমাকে এমন বিরক্তিকর ব্যাটিং কে শিখিয়েছে বাপু?" এক মূহুর্ত না ভেবে পাইলটের সপাটে জবাব, "কে আবার? তোমাদের সুনীল গাভাস্কার, যিনি পুরো ইনিংস ব্যাট করে ১৭৪ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত ছিলেন।"