আইপিলে টাইগারদের পদচারণা

মুহাম্মদ আশিক সৈকত
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২০, বিকাল ৫:৩০

বিশ্বের সবথেকে আকর্ষণীয় রমরমা ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের কথা মনে হলে শুরুতেই মাথায় আসবে আইপিএল এর নাম। নগদ কাড়িকাড়ি অর্থের ঝনঝনানি, হাই প্রোফাইল প্লেয়ার-কোচদের উপস্থিতি, চার-ছক্কার ফুলঝুরি যেন আইপিএলকে পরিণত করেছে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট ট্যুর্নামেন্টে। বর্তমান বিশ্বে প্রায়  প্রতিটি খেলোয়াড়েরই স্বপ্ন থাকে আইপিএল খেলার। এবার চলুন দেখে নেওয়া যাক আইপিএলে বাংলাদেশ থেকে কোন কোন ক্রিকেটার অংশগ্রহণ করেছেন- 

আব্দুর রাজ্জাক (RCB)

আব্দুর রাজ্জাক বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার যিনি আইপিএল খেলেছেন। ২০০৮ সালে ৫০,০০০ ডলারে বেঙ্গালুরু তাকে দলে ভেড়ায়। রাজস্থানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ৮ম ওভারে বল তুলে দেওয়া হয় আব্দুর রাজ্জাকের হাতে। প্রথম বলটিই ছিল নো বল! সে বলে থার্ডম্যান দিয়ে চার মারেন গ্রায়াম স্মিথ। পরের বলে ফ্রি হিটে বিশাল এক ছক্কা৷ ১ বলে ১১ রান! এভাবেই আইপিএলে আব্দুর রাজ্জাকের তিক্ত অভিষেক। সে ম্যাচে ২ ওভারে ২৯ রান দিয়ে উইকেটশূণ্য থাকেন তিনি। কার্যত শেষ হয়ে যায় তার আইপিএল ক্যারিয়ার। 

মাশরাফি বিন মোর্তুজা (KKR)

২০০৯ সালে আইপিএলের নিলামে মাশরাফিকে নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায় কলকাতা এবং পাঞ্জাবের মধ্যে। ৫০,০০০ ডলার বেজ প্রাইজ থেকে মাশরাফির দাম উঠে যায় ৬,০০,০০০ ডলারে। অবশেষে এই দামে মাশরাফিকে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে দলটির হয়ে তাকে বেশিরভাগ সময় বেঞ্চেই কাটাতে হতো। অবশেষে ডেকান চার্জার্সের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পেয়ে ব্যাটিয়ে ২ বলে ২ রান করে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি বোলিং এ ৪ ওভারে ৫৮ রান খরচ করেন। নিজের প্রথম ৩ ওভারে ৩৩ রান খরচ করা মাশরাফির হাতে যখন ২০তম ওভারে অধিনায়ক বল তুলে দেন, তখন ডেকানের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২১ রান। মাশরাফির সুযোগ ছিল ম্যাচ বের করে নায়ক বনে যাওয়ার। কিন্তু বিধিবাম! রোহিত শর্মার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাশরাফির প্রথম ৫ বল থেকেই ডেকান তুলে ফেলে ১৯ রান! শেষ বলে জয়ের জন্য যখন দরকার ২ রান, ঠিক সে বলেই সপাটে ছক্কা খান। ম্যাচ জিতে নেয় ডেকান চার্জার্স। এই একটিমাত্র ম্যাচ দিয়েই শেষ হয় মাশরাফির আইপিএল অধ্যায়। এরপর আর কোনদিন তাকে আইপিএলের মঞ্চে দেখা যায়নি।

মোহাম্মদ আশরাফুল (MI)

২০০৯ সালে ৫০,০০০ ডলার বেজ প্রাইজেই আশরাফুলকে কিনে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আইপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে দ্রুত দলের ২ উইকেট পড়ে যাওয়ায় তৃতীয় ওভারে যখন মাঠে নামলেন তখন বোলিং প্রান্তে ছিলেন ডার্ক ন্যানেস। তার করা তিনটি বল থেকে আশরাফুল কোন রানই পেলেননা। পরের ওভারে আভিস্কর সালভির ওভার থেকে দুই রান নিতে পারলেও এর ঠিক পরেই ন্যানেস এর বলে উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ১০ বলে মাত্র ২ রান করা আশরাফুল এরপর আর কোনদিন আইপিএলে মাঠে নামতে পারেননি এবং কোন ফ্রাঞ্চাইজিও তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেনি।

তামিম ইকবাল (PWI)

'এলাম, দেখলাম, জয় করলাম'- বিষয়টা অনেক ক্ষেত্রে শোনা গেলেও তামিমের আইপিএল ক্যারিয়ারকে বিশ্লেষণ করতে গেলে বলতে হয়, 'এলাম, দেখলাম, বসে থাকলাম'! হ্যাঁ পাঠক, ২০১৩ আইপিএলে তামিম ইকবালকে পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া দলে ভেড়ালেও একটি ম্যাচেও মাঠে নামা হয়নি এই ড্যাশিং ওপেনারের। পুরো মৌসুমটাই বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছে। তৎকালীন পুনে ক্যাপ্টেন সৌরভ গাঙ্গুলির রেওয়াজ ছিল - ম্যাচের আগের রাতে একাদশে যারা আছেন তাদেরকে ফোনে জানিয়ে দিতেন যে তারা পরেরদিন খেলছেন। তামিম ইকবাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে তিনি একবার রাত দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন সৌরভের ফোনের আশায়। কিন্তু ফোন না আসায় তিনি হতাশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। 

সাকিব আল হাসান (KKR, SRH)

বিশ্বের সেরা এই অলরাউন্ডারের আইপিএল যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে, কলকাতা নাইট রাইডার্স এর হয়ে। বাংলাদেশীদের মধ্যে আইপিএলে সবথেকে ধারাবাহিক খেলোয়াড় তিনি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত টানা সাত মৌসুম তিনি নাইটদের হয়ে মাঠ কাঁপিয়েছেন, আইপিএল ট্রফিও জিতেছেন। ২০১৮ সালে নতুন ঠিকানা গড়েন সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ আইপিএল খেলতে না পারলেও অরেঞ্জ আর্মিদের হয়ে পূর্ববর্তী দুই মৌসুম ভালই কাটিয়েছেন। এখন পর্যন্ত আইপিএলে ৬৩ ম্যাচ খেলে ২১.৩১ গড়ে ৭৪৬ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৫৯ উইকেট (ইকোনমি- ৭.৪৬)।

মুস্তাফিজুর রহমান (SRH, MI)

বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিস্ময় বালক বলা হয় তাকে,২০১৫ সালে ধূমকেতুর মত যার অভিষেক বাংলাদেশ ক্রিকেটে। অভিষেকের পর থেকেই যেন মায়াবী কাটারে পরাস্ত করে আসছিলেন বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটসম্যানদের। আইপিএলের মতো বড় আসরে যে তিনি খেলবেন, সেটা অনুমিতই ছিল। ২০১৬ সালে এক কোটি রুপিতে তাকে দলে ভেড়ায় সানরাইজার্স হায়াদ্রাবাদ। ২০১৬-১৭ এই দুই আসরে তিনি হায়াদ্রাবাদের হয়ে মাঠে নামেন। ২০১৬ সালে তিনি আইপিএল এর 'Emerging Player of the Tournament' এ ভূষিত হন। ২০১৮ সালে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে মাঠে নামলেও এরপর আর তাকে আইপিএল এর মঞ্চে দেখা যায়নি। সম্প্রতি জানা গেছে, চলতি আইপিএল খেলার জন্য দু-তিনটি ফ্র‍্যাঞ্চাইজি থেকে মুস্তাফিজের কাছে প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সফরের কথা মাথায় রেখে বিসিবি তাকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় আইপিএলে যাওয়া হয়নি। শ্রীলঙ্কা সফর আপাতত বরবাদ হয়ে যাওয়ায় মুস্তাফিজ যে আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আইপিএলে ২৪ ম্যাচে ৭.৫১ ইকোনমি রেটে ২৪ উইকেট নেওয়া এই পেসার ভবিষ্যতেও আইপিএলে মাঠ মাতাবেন, সেটাই প্রত্যাশা করি।

সেদিন খুব দূরে নয় যেদিন বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা আইপিএলের হটকেকে পরিণত হবেন এবং বহু নামিদামি ক্রিকেটারদের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ারের ফলে নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝুলিকে আরো সমৃদ্ধ করে তা দেশের ক্রিকেটে আরোপ করবেন। ফ্রাঞ্চাইজিগুলোতে ক্যারিবিয়ানদের মতো রাজত্ব করবে বাংলাদেশীরাও, সেই মনস্কামনা পূরণের প্রত্যাশায় রইলাম।


ব্যাঙ্গালুরো বনাম চেন্নাই সুপার কিংস
৪৪তম ম্যাচ, দুবাই
২৫ অক্টোবর ২০২০, বিকাল ৪টা
আইপিএল, ২০২০

রাজস্থান রয়েলস বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স
৪৫তম ম্যাচ, আবুধাবি
২৫ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০

পাকিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে
১ম ওয়ানডে, রওয়ালপিন্ডি
৩০ অক্টোবর ২০২০
জিম্বাবুয়ের পাকিস্তান সফর, ২০২০

পাকিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে
২য় ওয়ানডে, রওয়ালপিন্ডি
১ নভেম্বর ২০২০
জিম্বাবুয়ের পাকিস্তান সফর, ২০২০

পাকিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে
৩য় ওয়ানডে, রওয়ালপিন্ডি
৩ নভেম্বর ২০২০
জিম্বাবুয়ের পাকিস্তান সফর, ২০২০

পাকিস্তান বনাম জিম্বাবুয়ে
১ম টি-টুয়েন্টি, রওয়ালপিন্ডি
৭ নভেম্বর ২০২০
জিম্বাবুয়ের পাকিস্তান সফর, ২০২০

সবশেষ ফলাফল [ ফলাফল পাতা ]

কিংস এলিভেন পাঞ্জাব 12 রানে জয়ী।
৪৩তম ম্যাচ, দুবাই
কিংস এলিভেন পাঞ্জাব 126/7 (20.0)
সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ 114/10 (19.5)
২৪ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
কলকাতা 59 রানে জয়ী।
৪২তম ম্যাচ, আবুধাবি
কলকাতা 194/6 (20.0)
দিল্লী ক্যাপিটালস 135/9 (20.0)
২৪ অক্টোবর ২০২০, বিকাল ৪টা
আইপিএল, ২০২০
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স 10 উইকেটে জয়ী।
৪১তম ম্যাচ, শারজা
চেন্নাই সুপার কিংস 114/9 (20.0)
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স 116/0 (12.2)
২৩ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ 8 উইকেটে জয়ী।
৪০তম ম্যাচ, দুবাই
রাজস্থান রয়েলস 154/6 (20.0)
সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ 156/2 (18.1)
২২ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
ব্যাঙ্গালুরো 8 উইকেটে জয়ী।
৩৯তম ম্যাচ, আবুধাবি
কলকাতা 84/8 (20.0)
ব্যাঙ্গালুরো 85/2 (13.3)
২১ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০
কিংস এলিভেন পাঞ্জাব 5 উইকেটে জয়ী।
৩৮তম ম্যাচ, দুবাই
দিল্লী ক্যাপিটালস 164/5 (20.0)
কিংস এলিভেন পাঞ্জাব 167/5 (19.0)
২০ অক্টোবর ২০২০, রাত ৮টা
আইপিএল, ২০২০