প্রচ্ছদ / বিশ্বকাপে ব্রাত্য বিখ্যাতরা

প্রতিটি ক্রিকেটারের স্বপ্ন থাকে দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলার। তবে এমনও অনেক বিখ্যাত ক্রিকেটার আছেন, যাদের কিনা বিশ্বমঞ্চে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সৌভাগ্য হয়নি। এমনি ছয়জন ক্রিকেটারের কথা জানবো আজ- 

ভিভিএস লাক্সমান (ভারত)

২০০১ সালে কলকাতা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা সেই ২৮১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস ভারতীয় ক্রিকেটের অমর ইতিহাসের এক খন্ডচিত্র।  আর এই ইতিহাস যিনি রচনা করেছিলেন তিনি ভিভিএস লাক্সমান, যার নাম শচীন-দ্রাবিড়-সৌরভদের সঙ্গে সমভাবে উচ্চারিত হয়। অথচ তার গোটা ক্যারিয়ারেই বিশ্বকাপ ক্রিকেটের মঞ্চে না খেলার আক্ষেপ রয়ে গেছে। ১৯৯৬ থেকে ২০১২, ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ১৩৪ টি টেস্ট, যাতে করেছেন ১৭ সেঞ্চুরি ও ৫৬ হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে ৪৫.৫ গড়ে ৮৭৮১ রান। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেছেন ৮৬ টি, করেছেন ৩০.৭৬ গড়ে ২৩৩৮ রান (সেঞ্চুরি ৬টি, হাফ সেঞ্চুরি ১০ টি)। অথচ বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন সর্বদা ব্রাত্য!

জাস্টিন ল্যাঙ্গার (অস্ট্রেলিয়া)

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ওপেনার মনে করা হয় জাস্টিন ল্যাঙ্গারকে। অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান কোচ তার খেলোয়াড়ি জীবনে অজিদের হয়ে খেলেছেন ১০৫ টি টেস্ট, যেখানে ৪৫.২৭ গড়ে রয়েছে ৭৬৯৬ রান (সেঞ্চুরি ২৩ টি, হাফ সেঞ্চুরি ৩০ টি)। সাদা পোশাকে তার পরিসংখ্যান দুর্দান্ত হলেও রঙ্গিন পোশাকে তিনি নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি, আসলে মেলে ধরার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। আর তাই মাত্র ৮ ওয়ানডে খেলে করেছেন ১৬০ রান (সর্বোচ্চ স্কোর ৩৬)। তার ১৪ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সময়ে অস্ট্রেলিয়া ৩ বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও কোনবারই দলে জায়গা মিলেনি তার।

ক্রিস মার্টিন (নিউজিল্যান্ড)

৭১ টেস্টে ২৩৩ উইকেট! পরিসংখ্যানই বলে দেয় কতটা প্রতিভাবান বোলার ছিলেন ক্রিস মার্টিন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে স্যার রিচার্ড হ্যাডলি ও ডেনিয়েল ভেট্টোরির পরেই যার অবস্থান, তিনিই কিনা কোন বিশ্বকাপে খেলেননি! বিষয়টা বিস্ময়কর ঠেকলেও এটা সত্যি যে, তিনি রঙ্গিন পোশাকের ক্রিকেটে বড্ড সাদামাটা ছিলেন। ২০ ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ সাকুল্যে ১৮ টি উইকেট। এহেন পারফরম্যান্স এর জন্যেই মূলতঃ তার বিশ্বকাপ খেলা হয়ে উঠেনি। যদিও ২০০৭ বিশ্বকাপের দলে ড্যারেল টাফির চোটে স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছিলেন, তবে মাঠে আর নামা হয়নি। 

একটু অফ টপিক আলোচনা করা যাক। ক্রিস মার্টিন বেশ বিখ্যাত ছিলেন তার দুর্দশাগ্রস্থ ব্যাটিং এর জন্য। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যার টেস্ট, ওয়ানডে, ফার্স্ট ক্লাস ও লিস্ট 'এ' ক্রিকেটে রানের সংখ্যা উইকেটের থেকে কম। এই যেমন, ৭১ টি টেস্টে তার উইকেট সংখ্যা ২৩৩ টি আর ব্যাট হাতে রান করেছেন ১২৩ (এভারেজ ২.৩৬)! তার দখলে রয়েছে টেস্টে ৭ বার উভয় ইনিংসে শুন্য রানে আউট হওয়ার দূর্লভ রেকর্ড। এছাড়া তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি টেস্টে দুইবার 'ডায়ামন্ড ডাক' (কোন বল না খেলেই রান আউট হওয়া) মেরেছেন।

স্যার অ্যালিস্টার কুক (ইংল্যান্ড)

১৬১ টেস্টে ৪৫.৩৫ গড়ে ১২,৪৭২ রান (সেঞ্চুরি ৩৩ টি, হাফ-সেঞ্চুরি ৫৭ টি)। রঙ্গিন পোশাকে ৯২ ওয়ানডেতে সংগ্রহ ৩৬.৪০ গড়ে ৩,২০৪ রান (সেঞ্চুরি ৫ টি, হাফ সেঞ্চুরি ১৯ টি)। ইংলিশ ক্রিকেটে টপ অর্ডারে এক ভরসার নাম ছিলেন স্যার অ্যালিস্টার কুক, পরিসংখ্যানও যথেষ্ট সমৃদ্ধ। অথচ সাবেক ইংলিশ দলপতির খেলা হয়নি কোন বিশ্বকাপ! মূলতঃ দলীয় কম্বিনেশন ও ব্যাটিং অর্ডারে আরো অপশন থাকায় বিশ্বকাপের মত বড় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের হয়ে তার মাঠ মাতানো হয়ে উঠেনি।

স্টুয়ার্ট ম্যাকগিল (অস্ট্রেলিয়া)

ক্রিকেট ইতিহাসে দূর্ভাগা ক্রিকেটারদের যদি কোন তালিকা করা হয়, তাহলে তাতে নিঃসন্দেহে ঠাঁই মিলবে ডান হাতি লেগ স্পিনার স্টুয়ার্ট ম্যাকগিলের। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা সময় কাটিয়েছেন কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্নের ছায়ায়। এরপরও যতবার সুযোগ পেয়েছেন, নিজের প্রতিভার উজ্জ্বল সাক্ষর রেখে গেছেন। মাত্র ৪৪ টি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়ে ঝুলিতে পুরেছেন ২০৮ টি উইকেট। তবে ওয়ানডেতে সুযোগ পাননি বললেই চলে। মাত্র ৩ টি ওয়ানডে খেলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। আসলে তখনকার অস্ট্রেলিয়া দলে একঝাঁক প্রতিভাবান ফাস্ট বোলারের পাশাপাশি স্পিন অ্যাটাকে শেন ওয়ার্ন থাকায় নির্বাচকরা বাড়তি স্পিনার হিসেবে তার প্রতি আর মাথা ঘামান নি। আর তাই বিশ্বকাপেও খেলা হয়ে উঠেনি তার। শেন ওয়ার্ন না থাকলে হয়তো আক্ষেপের গল্পটা অন্যরকম হতে পারতো! 

ম্যাথু হগার্ড (ইংল্যান্ড)

৬৭ টেস্টে হ্যাট্রিকসহ শিকার ২৪৮ উইকেট। বলছি ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ১০ উইকেট শিকারি একজনের কথা, তিনি সাবেক মিডিয়াম ফাস্ট বোলার ম্যাথু হগার্ড। ৮ বছরের ছোট্ট আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে টেস্টে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ত্রাস ছড়াতে পারলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেকে সেভাবে তুলে ধরতে পারেননি। আর তাই ক্যারিয়ারে দেশের জার্সিতে খেলা ২৬ ওয়ানডেতে ৩২ উইকেট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে৷ ২০০৩ বিশ্বকাপে যদিও স্কোয়াডে ছিলেন, তবে কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার।

  • ট্যাগস

এ বিভাগের আরও নিউজ

টেলএন্ডারদের দৈন্য ব্যাটিং একাদশ

সোমবার, ১১ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ১২:১১

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ ক্রিকেটীয় পরিভাষায় 'টেলএন্ডার' বলতে সাধারণত একদম নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের বোঝানো হয়, যাদের ব্যাটিং অর্ডার সাধারণত আট নম্বর থেকে শুরু হয়। মূলতঃ তাদের প্রধান কা

উইকেট রক্ষার প্রক্সি রক্ষক

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি ২০২১, সকাল ১১:৪৯

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ একদা এক সময় ছিল যখন 'উইকেটরক্ষক - ব্যাটসম্যান' টার্মটা ক্রিকেটে সেভাবে প্রচলিত ছিলনা। কারণ, একজন উইকেটরক্ষক উইকেটের পেছনে ভাল করলে আর কাজ চালানোর মতো ব্যাটিং জা

দ্য পেইন কিলার!

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, রাত ১২:২৭

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ আমার স্পষ্ট মনে আছে, যখন আমার বান্ধবী কাজে যেত, আমি চুপচাপ সোফায় বসে কাঁদতাম। শুধু মনে হতো, সবাইকে হতাশ করছি আমি। লম্বা সময় ধরে রান পাচ্ছিলাম না। খেতে পারতাম না

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

মেলবোর্ন রেনেগেডস  মেলবোর্ন স্টারস

১৭ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ২:৩০

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিকস  ওটাগো

১৮ জানুয়ারি ২০২১, সকাল ৯টা

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

সিডনি থানডার  হোবার্ট হারিকেনস

১৮ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ২:৩০

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

পার্থ স্কর্চার্স  হোবার্ট হারিকেনস

১৯ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ২:৩০

ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফর, ২০২১

বাংলাদেশ  ওয়েষ্ট ইন্ডিজ

২০ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ২টা

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

নর্দান নাইটস উইকেটে জয়ী (ডি/এল পদ্ধতি)

১৮তম ম্যাচ, অকল্যান্ড

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

সিডনি সিক্সারস উইকেটে জয়ী

৪১তম ম্যাচ, ক্যানবেরা

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

ক্যান্টারবুরি উইকেটে জয়ী

১৭তম ম্যাচ, ক্রাইসচার্চ

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

মেলবোর্ন স্টারস ১১১ রানে জয়ী

৪০তম ম্যাচ, মেলবোর্ন

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

ক্যান্টারবুরি উইকেটে জয়ী

১৬তম ম্যাচ, ক্রাইসচার্চ

ইংল্যান্ডের শ্রীলংকা সফর, ২০২১

১৪ জানুয়ারি ২০২১ -  ২৬ জানুয়ারি ২০২১

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

২৪ ডিসেম্বর ২০২০ -  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

১০ ডিসেম্বর ২০২০ -  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর, ২০২০/২১

১৭ নভেম্বর ২০২০ -  ১৯ জানুয়ারি ২০২১