প্রচ্ছদ / টেলএন্ডারদের দৈন্য ব্যাটিং একাদশ

ক্রিকেটীয় পরিভাষায় 'টেলএন্ডার' বলতে সাধারণত একদম নিচের সারির ব্যাটসম্যানদের বোঝানো হয়, যাদের ব্যাটিং অর্ডার সাধারণত আট নম্বর থেকে শুরু হয়। মূলতঃ তাদের প্রধান কাজ বোলিং হলেও ক্রিকেট ইতিহাসে অনেক ম্যাচ দেখতে পাওয়া যায় , যেখানে টেলএন্ডারদের ব্যাটে দলের জয় এসেছে। তবে এর উল্টোচিত্রও হরহামেশাই দেখা যায়। এই যেমন, অনেক বিখ্যাত বোলার আছেন যাদের 'টেলএন্ডার' হিসেবে পারফরম্যান্স একেবারে ছন্নছাড়া - যাচ্ছেতাই। আর ঠিক এমন ক্রিকেটারদের ব্যাটিং পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করেই  অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক 'ফক্স ক্রিকেট' ঘোষণা করেছে 'Worst Ever Tailenders' দের 'ALL - TIME XI'. এই দলে ক্যাপ্টেন হিসেবে রাখা হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ক্রিস মার্টিনকে। একাদশে ইংল্যান্ড থেকে জায়গা পেয়েছে সর্বাধিক ৩ জন। এছাড়া  ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং জিম্বাবুয়ে থেকে ২ জন করে খেলোয়াড়সহ নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ১ জন করে খেলোয়াড়ের ঠাঁই মিলেছে এই একাদশে। চলুন দেখে নেওয়া যাক টেলএন্ডারদের এই একাদশ বৃত্তান্ত -

 

১. ক্রিস মার্টিন ( নিউজিল্যান্ড )

টেলএন্ডারদের 'দুর্দশাগ্রস্থ ব্যাটিং' যদি কোন শিল্প হয়, তাহলে নিশ্চিতভাবে এ শিল্পের সর্বকালের সেরা শিল্পী হিসেবে স্বীকৃতি মিলবে ক্রিস মার্টিনের। অন্ততঃ তার ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান সে কথাই বলে। সাবেক এই কিংবদন্তি কিউই পেসারের ক্যারিয়ারে এমন ৭ টি টেস্ট ম্যাচ আছে, যেখানে ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই তিনি আউট হয়েছেন শূন্য রানে। টেস্টে সর্বাধিক ৭ বার 'গোল্ডেন ডাক' মারার রেকর্ডও তার দখলে! তিনি তার ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক - ঘরোয়া সহ সর্বমোট  ৩০৮ টি ইনিংসে ব্যাট হাতে নেমেছেন, যার মধ্যে দুই অঙ্কের কোটায় রান করতে পেরেছেন মোটে ১২ বার। টেস্ট ম্যাচে মোট ২৭ বার বোল্ড আউট হওয়ার রেকর্ডও তার ঝুলিতে। এছাড়া ক্যারিয়ারে তিনি এমন ২৭ টি টেস্ট খেলেছেন, যেখানে তার রানসংখ্যা শুন্য! সাধে কি আর তাকে এই দলের ওপেনার প্লাস ক্যাপ্টেন ঘোষণা করা হয়েছে?

 

২. কোর্টনি ওয়ালশ ( ওয়েস্ট ইন্ডিজ )

ক্রিস মার্টিন যদি 'দুর্দশাগ্রস্থ ব্যাটিং' শিল্পের 'লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ' হন, তবে কোর্টনি ওয়ালশকে বলা যায় এ শিল্পের 'পাবলো পিকাসো'। ওয়ালশের বোলিং নিয়ে কারোরই প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। তবে ব্যাটিংটা যেন ছিল একেবারেই লেজেগোবরে। টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক ৪৩ বার শুন্য রানে আউট হওয়ার রেকর্ডটা একান্তই কোর্টনি ওয়ালশের। এছাড়া ক্রিকেটের সব সংস্করণ মিলিয়ে শুন্যের ফিফটি আছে তার (৫৪ টি)! ১৩২ টি টেস্ট ম্যাচে তার ব্যাটিং গড় ৭.৫৪ এবং ২০৫ টি ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় ৬.৯৭। ইনিংস ওপেনের ক্ষেত্রে নন- স্ট্রাইকার হিসেবে মার্টিনের যোগ্য সঙ্গী হিসেবে তিনিই পারফেক্ট। 

 

৩. গ্লেন ম্যাকগ্রা ( অস্ট্রেলিয়া )

সাবেক এই কিংবদন্তি অজি ফাস্ট বোলার ক্রিকেটবিশ্বের সেই দুইজনের মধ্যে একজন, যিনি কিনা টেস্ট এবং ওয়ানডেতে নিজের খেলা প্রথম বলেই আউটের শিকার হয়েছেন। বল হাতে টেস্টে ১০৪ জন ব্যাটসম্যানকে ১৭৬ বার শুন্য হাতে ফেরালেও নিজে ব্যাট হাতে ৩৫ বার শুন্য রানে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন, যা টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টেস্টে ব্যাট হাতে ৭.৩৬ এবং ওয়ানডেতে ৩.৮৩ গড় নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করা গ্লেন ম্যাকগ্রাকে এই দলের ওয়ান ডাউন পজিশনে রাখা যুতসই সিদ্ধান্তই বটে! 

 

৪. মন্টি প্যানেসার ( ইংল্যান্ড )

ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক এই বাঁহাতি ইংলিশ  স্পিনার ইংল্যান্ডের জার্সিতে ৫০ টেস্টে ১৬৭ উইকেট শিকার করলেও তার ব্যাটিং ছিল একেবারেই রসকষহীন। হোক টেস্ট বা ওয়ানডে কিংবা ফার্স্ট ক্লাস এবং লিস্ট 'এ', কোনখানেই তার ব্যাটিং গড় ৯ এর ওপর উঠেনি! আর তাই টেস্টে ৪.৮৮ এবং ওয়ানডেতে ৫.২০ গড় তাকে স্থান করে দিয়েছে এই দলের চার নম্বর ব্যাটিং পজিশনে। 

 

৫. অজিত আগারকার ( ভারত )

বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটের কোন একাদশ তৈরি করা হবে আর সেখানে ভারতীয় কোন খেলোয়াড় থাকবেনা, তা কি আদৌ কখনো সম্ভব? না, মোটেও সম্ভব না। আর তাই অজিত আগারকার এই একাদশে স্বমহিমায় ঠাঁই পেয়ে গিয়েছেন। পাঠক, আপনি জেনে অবাক হবেন, অজিত আগারকারের এমন কীর্তি আছে, যা কিনা স্বয়ং শচীন টেন্ডুলকারেরও নেই! আর তা হলো লর্ডসে সেঞ্চুরি! তাহলে মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাকে কেন এই একাদশে ঠাঁই দেওয়া হলো? ভীমড়ি খাবেননা, বিষয়টি খোলাসা করছি। টেস্টে টানা পাঁচ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়ার বিরল রেকর্ড রয়েছে তার দখলে, যার মধ্যে প্রথম চারটি আবার ছিল 'গোল্ডেন ডাক'। টেস্টে ঐ এক সেঞ্চুরি বাদে আর কোনদিন হাফ সেঞ্চুরির দেখাও মিলেনি তার ব্যাটে, ব্যাটিং গড় ১৬.৭৯। অবশ্য ওয়ানডেতে তিনটি হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন তিনি। এই একাদশে পূর্বের ব্যাটসম্যানদের তুলনায় তার ব্যাটিং গড় তুলনামূলক ভাল থাকায় তিনি যে দলের ব্যাটিং বিপর্যয়ে হাল ধরতে পারবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা! 

 

৬. জাসপ্রিত বুমরাহ ( ভারত ) 

এই দলের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার জাসপ্রিত বুমরাহ, যিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া অবস্থায়ই উক্ত একাদশে  স্থান পেয়েছেন। তাহলে বুঝুন, তার ব্যাটিং এর প্রতি নির্বাচকরা কতটা আস্থাশীল হলে এত কম বয়সেই তাকে এই দলে অন্তর্ভুক্ত করেন! টেস্ট, ওয়ানডে ও টি টুয়েন্টি - এই তিন ফর্মেটেই বুমরা বিশ্বের গুটিকয়েক খেলোয়াড়ের একজন, যাদের কিনা প্রতিটি ফর্মেটেই ব্যাট হতে করা রানের চেয়ে বল হাতে নেওয়া উইকেট সংখ্যা বেশি! টেস্টে ২.৯২, ওয়ানডেতে ৩.১৬ এবং টি টুয়েন্টিতে ৪.০০ গড়ে সমৃদ্ধ ব্যাটিং পরিসংখ্যান এই দলে তার জায়গা পাওয়ার কাজটা যে রীতিমতো সহজ করে দিয়েছে নির্বাচকদের, তা অনুমিতই বলা চলে। 

 

৭. ফিল টাফনেল ( ইংল্যান্ড )

বর্তমানে বিবিসি রেডিও এবং টেলিভিশন চ্যানেলে  'ম্যাচ এনালিস্ট' এবং 'হোস্ট' হিসেবে কাজ করা ফিল টাফনেল ইংল্যান্ডের জার্সিতে তার ১১ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৪২ টি টেস্ট এবং ২০ টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন। বল হাতে তাকে মোটামুটি সফল বলে আখ্যায়িত করা গেলেও ব্যাট হাতে তার অবস্থা ছিল নাজুক। টেস্টে ৫.১০ এবং ওয়ানডেতে ১৫.০০ ব্যাটিং গড়ের সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনারকে তাই ব্যাটিং অর্ডারের এই পজিশনের জন্য নির্বাচন করেছে ফক্স ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। 

 

৮. ব্রুস রেইড ( অস্ট্রেলিয়া )

৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার ব্রুস রেইড একসময় ছিলেন ক্রিকেটবিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ক্রিকেটার। সাবেক এই অজি বোলার ক্যারিয়ারে ২৭ টি টেস্ট খেলে করেছেন সাকুল্যে ৯৩ রান (সর্বোচ্চ ১৩, গড় ৪.৬৫) এবং ৬১ টি ওয়ানডেতে তার রানসংখ্যা সর্বমোট ৪৯ (সর্বোচ্চ ১০, গড় ৩.৭৬)! টেলএন্ডারদের দলের একজন আদর্শ টেলএন্ডারই বটে!

 

৯. ডেভন ম্যালকম ( ইংল্যান্ড ) 

জ্যামাইকার কিংস্টনে জন্মগ্রহণকারী দীর্ঘদেহী এ ফাস্ট বোলার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ইংল্যান্ডের হয়ে। ইংলিশ জার্সিতে ৪০ টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ৬.০৫ এবং ১০ ওয়ানডে ম্যাচে ব্যাটিং গড় ৩.০০। ম্যালকম তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ৩০৪ টি ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলে ১,০৫৪ টি উইকেট শিকার করলেও তার ব্যাটিং গড় মাত্র ৭.৮৪, যা তাকে নিশ্চিতভাবেই এই দলে আসন গেড়ে দিয়েছে। 

 

১০. হেনরি ওলোঙ্গা ( জিম্বাবুয়ে )

কেনিয়ান বাবা এবং জিম্বাবুইয়ান মাতার কোলজুড়ে জন্ম নেওয়া হেনরি ওলোঙ্গাকে একসময় বিবেচনা করা হতো জিম্বাবুয়ের ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতিশীল বোলার হিসেবে। তবে বিদ্রোহের কবলে মাত্র ২৬ বছর বয়সেই শেষ হয়ে যায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। এই স্বল্প সময়ে জিম্বাবুয়ের জার্সি গায়ে  ৩০ টি টেস্ট এবং ৫০ টি ওয়ানডে খেলে বল হাতে আস্থার যথেষ্ট প্রমাণ দিলেও ব্যাট হাতে তিনি ছিলেন প্রায় নিষ্প্রভ। টেস্ট, ওয়ানডে, ফার্স্ট ক্লাস কিংবা লিস্ট 'এ' - কোথাও ব্যাট হাতে হাফসেঞ্চুরির দেখা মিলেনি তার। তিনি বিশ্বের পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন, যারা কিনা টানা ৪ টি ওয়ানডেতে 'ডাক' মেরেছেন। টেস্টে ৫.৪১ এবং ওয়ানডেতে ৭.৩০ ব্যাটিং গড়ের হেনরি ওলোঙ্গার তাই এই পজিশনেই স্থান প্রাপ্য।

 

১১. পমি এমবাঙ্গুয়া ( জিম্বাবুয়ে ) 

বর্তমানে ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করা সাবেক এই জিম্বাবুইয়ান মিডিয়াম ফাস্ট বোলারের টেস্টে ব্যাটিং গড় ২.০০ এবং ওয়ানডেতে ৪.৮৫! মজার বিষয়, টেস্ট এবং ওয়ানডে - দুই ফর্মেটেই তার মোট রান ৩৪। এমন একজন ক্রিকেটারকে টেলএন্ডারদের একাদশের সর্বশেষ টেলএন্ডার হিসেবে না রাখলে বড্ড অন্যায়ই হয়ে যেত! 

  • ট্যাগস

এ বিভাগের আরও নিউজ

উইকেট রক্ষার প্রক্সি রক্ষক

বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি ২০২১, সকাল ১১:৪৯

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ একদা এক সময় ছিল যখন 'উইকেটরক্ষক - ব্যাটসম্যান' টার্মটা ক্রিকেটে সেভাবে প্রচলিত ছিলনা। কারণ, একজন উইকেটরক্ষক উইকেটের পেছনে ভাল করলে আর কাজ চালানোর মতো ব্যাটিং জা

দ্য পেইন কিলার!

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২০, রাত ১২:২৭

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ আমার স্পষ্ট মনে আছে, যখন আমার বান্ধবী কাজে যেত, আমি চুপচাপ সোফায় বসে কাঁদতাম। শুধু মনে হতো, সবাইকে হতাশ করছি আমি। লম্বা সময় ধরে রান পাচ্ছিলাম না। খেতে পারতাম না

মুখোমুখি তামিম ইকবাল

বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০, সন্ধ্যা ৬:৪২

ESPNCricinfo এর মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল খান। সেখানে তাকে ঝটপট ২৫ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হয়

ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফর, ২০২১

বাংলাদেশ  ওয়েষ্ট ইন্ডিজ

২০ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ২টা

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

মেলবোর্ন রেনেগেডস  মেলবোর্ন স্টারস

২০ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ২:৩০

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

নর্দান নাইটস  ক্যান্টারবুরি

২১ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ১২ টা

আফগানিস্তানের আরব আমিরাত সফর, ২০২১

আফগানিস্তান  আয়ারল্যান্ড

২১ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ১২ টা

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

অ্যাডিলেড স্ট্রাইকারস  ব্রিসবেন হিট

২১ জানুয়ারি ২০২১, দুপুর ২:৩০

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

হোবার্ট হারিকেনস উইকেটে জয়ী

৪৩তম ম্যাচ, ক্যানবেরা

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিকস উইকেটে জয়ী (ডি/এল পদ্ধতি)

১৯তম ম্যাচ, নিউ প্লেমাউথ

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

মেলবোর্ন স্টারস উইকেটে জয়ী

৪২তম ম্যাচ, মেলবোর্ন

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

নর্দান নাইটস উইকেটে জয়ী (ডি/এল পদ্ধতি)

১৮তম ম্যাচ, অকল্যান্ড

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

সিডনি সিক্সারস উইকেটে জয়ী

৪১তম ম্যাচ, ক্যানবেরা

আফগানিস্তানের আরব আমিরাত সফর, ২০২১

১৮ জানুয়ারি ২০২১ -  ২৩ জানুয়ারি ২০২১

ইংল্যান্ডের শ্রীলংকা সফর, ২০২১

১৪ জানুয়ারি ২০২১ -  ২৬ জানুয়ারি ২০২১

সুপার স্ম্যাশ, ২০২০/২১

২৪ ডিসেম্বর ২০২০ -  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

বিগ ব্যাস, ২০২০/২১

১০ ডিসেম্বর ২০২০ -  ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০