প্রচ্ছদ / টেস্টে দেশের হয়ে প্রথম দশ সেঞ্চুরির কীর্তি

টেস্টে দেশের হয়ে প্রথম দশ সেঞ্চুরির কীর্তি

আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান টেস্ট পরিবারের সদস্য হওয়ার আগে বাংলাদেশ ছিল এই সম্ভ্রান্ত পরিবারের নবীনতম সদস্য। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এই রাজসিক ফর্ম্যাটে কোন টাইগার ব্যাটসম্যানের দশটি সেঞ্চুরি ছিল না। অবশেষে সেই আক্ষেপ ঘুচলো টাইগার টেস্ট কাপ্তান মুমিনুল হকের হাত ধরে। সদ্য সমাপ্ত ট্রাজেডিময় চট্টগ্রাম টেস্টে দারুণ এক শতক হাঁকিয়ে তামিম ইকবালকে হটিয়ে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান এখন কক্সবাজারের এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। টেস্ট পরিবারের বাকি সদস্য দেশের পক্ষে কারা সর্বপ্রথম দশটি শতকের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তা খুব জানতে করছে, তাইনা? তাহলে, চলুন জেনে আসা যাক। 

 

স্যার জ্যাক হবস (ইংল্যান্ড) 

ইংলিশ ক্রিকেটের এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান টেস্ট ক্রিকেটে সর্বপ্রথম দশ সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন ১৯২৫ সালে। তিনি ১৯৩০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন, যখন তার বয়স ছিল ৪৮! এরপর আরও ৪ বছর তিনি ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যান। হবস তার ২২ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৬১ টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ব্যাট হাতে করেছেন ৫৬.৯৪ গড়ে ৫,৪১০ রান (সেঞ্চুরি ১৫ টি, হাফ সেঞ্চুরি ২৮ টি)। আর তার প্রথম শ্রেণির পরিসংখ্যান তো রীতিমতো আঁতকে উঠার মতো! ২৯ বছরের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ম্যাচ খেলেছেন ৮৩৪ টি। আর তাতে ব্যাট হাতে  সংগ্রহ ৫০.৭০ গড়ে ৬১,৭৬০ রান (সেঞ্চুরি ১৯৯ টি, হাফ সেঞ্চুরি ২৭৩ টি, সর্বোচ্চ ৩১৬*)! পাশাপাশি ডানহাতি মিডিয়াম পেসে তুলে নিয়েছেন ২৫.০৩ গড়ে ১০৮ উইকেট (সেরা ৭/৫৬)। সাধেই কি আর তাকে ইংলিশ ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ওপেনার মনে করা হয়?

 

স্যার ডন ব্রাডম্যান ( অস্ট্রেলিয়া ) 

কারও কাছে তিনি সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, কারও কাছে টেস্ট গড় ১০০ না হওয়া এক আক্ষেপের নাম আবার কারও কাছে তিনি টেস্ট শিল্পের নিপুণ এক শিল্পী। তবে লোকে যাই বলুক, রেকর্ডবুকের বহু ইতিহাস নিজের নামে করে নেওয়া এই অজি কিংবদন্তি ১৯৩১ সালে দেশের পক্ষে প্রথম দশ সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন।  ২০ বছরের লম্বা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৫২ টি টেস্টে মাঠে নামা ব্রাডম্যান মোট সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন ২৯ টি। এছাড়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও তার ১১৭ টি শতক রয়েছে। 

 

জর্জ হ্যাডলি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)

পানামায় ১৯০৯ সালে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যানের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তিকাল ১৯৩০ থেকে ১৯৫৪ সাল। তবে ২৪ বছরের লম্বা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন মোটে ২২ টি টেস্ট! বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, তিনি ১৯৩৯ সালের মধ্যেই দেশের হয়ে সর্বপ্রথম দশ টেস্ট সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মোট সেঞ্চুরির সংখ্যাও ওই ১০ টি! তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই জ্যামাইকান ব্যাটসম্যানের ৩৩ টি শতক রয়েছে। 

 

পলি উমরিগার (ভারত)

পঞ্চাশের দশকে ভারতীয় ক্রিকেটের মিডল অর্ডারে এক আস্থার প্রতীক ছিলেন পলি উমরিগার, মাঝে ৮ টি টেস্ট ম্যাচে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। ১৯৬১ সালে ৩৫ বছর বয়সে উমরিগার প্রথম ভারতীয় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে দশ সেঞ্চুরির রেকর্ড স্পর্শ করেন। ১৯৬২ সালে টেস্ট থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে ৫৯ ম্যাচ খেলে তার শতক হাঁকানোর সংখ্যা সর্বমোট ১২। 

 

হানিফ মোহাম্মদ (পাকিস্তান) 

উপমহাদেশের প্রথম 'লিটল মাস্টার' খ্যাত এই ব্যাটসম্যান ছিলেন ক্রিকেটের এক পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেললেও মাঝেমধ্যে ডানহাতে অফ ব্রেক বোলিং করতেন, এমনকি দলের প্রয়োজনে উইকেট কিপিংও করতে দেখা গেছে বহুবার। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের হয়ে টেস্টে সর্বপ্রথম দশ সেঞ্চুরির মালিক বনে যান তিনি। হানিফ মোহাম্মদ ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার যিনি সময়ের বিচারে সবথেকে ধীরগতিতে (৯৭০ মিনিট) ব্যাট করে ত্রিপল সেঞ্চুরির দেখা পান। এছাড়া তৎকালীন সময়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ইনিংস (৪৯৯ রান) খেলার রেকর্ডটিও ছিল তার দখলে। 

 

মার্টিন ক্রো (নিউজিল্যান্ড)

নিউজিল্যান্ডের  ক্রিকেট পরিবারে জন্ম নেওয়া এই প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান প্রথম কিউই ব্যাটসম্যান হিসেবে ১৯৮৯ সালে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের নামের পাশে দশটি সেঞ্চুরি যুক্ত করেন। ক্যারিয়ারে খেলা মোট ৭৭ টি টেস্টে তার হাঁকানো মোট সেঞ্চুরির সংখ্যা ১৭ টি, বিপরীতে হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে ১৮ টি। 

 

অরবিন্দ ডি সিলভা (শ্রীলঙ্কা) 

ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে যারা দর্শকমনে স্বমহিমায় আসন গাড়তে সক্ষম হয়েছেন,তাদের মধ্যে অন্যতম অরবিন্দ ডি সিলভা। ১৯৯৬ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে অপরাজিত সেঞ্চুরির পাশাপাশি বল হাতে ৩ উইকেট শিকার করে প্রায় একাই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার এই স্বপ্নদ্রষ্টা ১৯৯৭ সালে সর্বপ্রথম টেস্ট ক্রিকেটে দশ সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন, যা শ্রীলঙ্কান হিসেবে প্রথম৷ লম্বা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি সাদা পোশাকে মোট ২০ টি শতক হাঁকাতে সক্ষম হন। 

 

গ্যারি কার্স্টেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)

ভারতকে ২০১১ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পেছনের কারিগর যিনি, তিনি হলেন তৎকালীন ভারতীয় কোচ গ্যারি কার্স্টেন। তার আরেক পরিচয়, তিনি সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ওপেনার। ১১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১০১ টি টেস্টে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন এবং সর্বমোট ২১ টি শতক হাঁকাতে সক্ষম হন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার হিসেবে তিনিই এ ফর্ম্যাটে সর্বপ্রথম দশ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি নিজের করে নেন। উল্লেখ্য, কার্স্টেন এ কীর্তিটি গড়েন ১৯৯৯ সালে। 

 

অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (জিম্বাবুয়ে) 

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের সোনালী দিনের একজন প্রত্যক্ষদর্শী যোদ্ধা ছিলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। সাবেক এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান মাত্র এগারো বছর জিম্বাবুয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছেন, আর তাতেই নিজের প্রতিভার উজ্জ্বল সাক্ষর রাখতে সমর্থ হয়েছেন। ২০০১ সালে প্রথম জিম্বাবুইয়ান ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে দশ সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি।

  • ট্যাগস

এ বিভাগের আরও নিউজ

২১ বছরের শিশুর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, দুপুর ১:২২

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ একদা এক সময় ছিল যখন একেকটা ক্রিকেট ম্যাচের ব্যাপ্তি হতো ছয়-সাতদিন কিংবা আটদিন, এরপরে সেটি নেমে আসলো পাঁচদিনে। পরবর্তী জামানায় ক্রিকেটের পালে রঙ্গিন হাওয়া লাগার

ক্রিকেট ময়দানে আলোড়িত উপস্থাপিকা

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, দুপুর ৩:২১

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ একাবিংশ শতাব্দীতে ক্রিকেট শুধুমাত্র মাঠ আর গ্যালারির মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। নানা রংয়ের বাণিজ্যের মোড়লে ক্রিকেট আজ একটি শিল্পের নাম। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে ম্যাচ বিশ

একজন শোয়েব মালিক এবং ক্রিকেট

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বিকাল ৪:৩১

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ নব্বই দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করা খেলোয়াড়েরা প্রায় সবাই ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে কোচ, আম্পায়ার, ধারাভাষ্যকার কিংবা অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে গেছেন। ব্যতিক্রম, শোয়ে

পিসিএল, ২০২১

ইসলামাবাদ ইউনাইটেড  কোটা গ্ল্যাডিয়েটরস

অস্ট্রেলিয়ার নিউজিল্যান্ড সফর, ২০২১

নিউজিল্যান্ড  অস্ট্রেলিয়া

৩ মার্চ ২০২১, দুপুর ১২ টা

পিসিএল, ২০২১

করাচি কিংস  পেশোয়ার জালমী

পিসিএল, ২০২১

কোটা গ্ল্যাডিয়েটরস  মূলতান সুলতানস

ইংল্যান্ডের ভারত সফর, ২০২১

ভারত  ইংল্যান্ড

৪ মার্চ ২০২১, সকাল ১০টা

পিসিএল, ২০২১

পেশোয়ার জালমী উইকেটে জয়ী

৮ম ম্যাচ, করাচি

পিসিএল, ২০২১

মূলতান সুলতানস উইকেটে জয়ী

৭ম ম্যাচ, করাচি

অস্ট্রেলিয়ার নিউজিল্যান্ড সফর, ২০২১

নিউজিল্যান্ড রানে জয়ী

২য় টি-টুয়েন্টি, ডুনেডিন

পিসিএল, ২০২১

ইসলামাবাদ ইউনাইটেড উইকেটে জয়ী

৬ষ্ঠ ম্যাচ, করাচি

পিসিএল, ২০২১

পেশোয়ার জালমী উইকেটে জয়ী

৫ম ম্যাচ, করাচি

অস্ট্রেলিয়ার নিউজিল্যান্ড সফর, ২০২১

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ -  ৭ মার্চ ২০২১

পিসিএল, ২০২১

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ -  ২২ মার্চ ২০২১

ইংল্যান্ডের ভারত সফর, ২০২১

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ -  ২৮ মার্চ ২০২১