প্রচ্ছদ / ২১ বছরের শিশুর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক

২১ বছরের শিশুর ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক

একদা এক সময় ছিল যখন একেকটা ক্রিকেট ম্যাচের ব্যাপ্তি হতো ছয়-সাতদিন কিংবা আটদিন, এরপরে সেটি নেমে আসলো পাঁচদিনে। পরবর্তী জামানায় ক্রিকেটের পালে রঙ্গিন হাওয়া লাগার বদৌলতে ক্রিকেট ক্রমে ক্রমে নেমে আসলো একদিনে, ষাট ওভারের ম্যাচ নেমে আসলো পঞ্চাশ ওভারে, শুরু হলো টি টুয়েন্টির জামানা, হালের টি টেনও দারুণ জনপ্রিয়তা লাভ করছে। তবে কি টেস্ট ক্রিকেট... না, এমনটি ভাবার কোন কারণই নেই। ক্রিকেটের এত সংস্করণের ভিড়েও স্বমহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে টেস্ট ক্রিকেট।

 

একজন ব্যাটসম্যান কিংবা একজন বোলারের সক্ষমতা - সামর্থ্য যাচাইয়ের সবথেকে বড় মঞ্চ এই টেস্ট ক্রিকেট। এমন কোন ক্রিকেটার নেই যিনি এই রাজকীয় ফর্মেটে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেননা। ক্রিকেটবিশ্বে মাত্র ১২ টি দেশের রয়েছে টেস্ট ক্রিকেট খেলার যোগ্যতা, তার মধ্যে আমাদের বাংলাদেশও রয়েছে। অথচ ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর আজ অবদি আমাদের অর্জনের খেরোখাতা ঠিক কতটা অন্তঃসারশূন্য, তা যেকোন ক্রিকেটপ্রেমীরই জানা।

 

সদ্য সমাপ্ত টেস্ট সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আমাদের ধবলধোলাই হওয়াটা টেস্টে আমাদের কঙ্কালসার চেহারাটাকে একেবারে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এর দায় যেমন কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে অধিনায়ক - খেলোয়াড়দের তেমনিভাবে আমাদের দেশের ক্রিকেট কাঠামোর বিভৎস অবস্থাও সমানভাবে দায়ী।

 

একটি দেশের ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট দেখে সে দেশের টেস্টের দল নির্বাচন করা হয়। এমনকি একটি দেশের ক্রিকেট ভবিষ্যতও এর ওপর নির্ভর করে। অথচ আমাদের দেশের ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচগুলো হয় পিকনিক ফ্লেভার নিয়ে, জাতীয় দলে একবার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় এসে পড়লে খেলোয়াড়রা যেন একেকজন লাট সাহেব হয়ে ওঠেন প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার ব্যাপারে! আর টেস্ট দল... সে তো সিলেক্ট করা হয় ওয়ানডে আর টি টুয়েন্টি পারফর্ম্যান্স বিবেচনায় এনে! 

 

দর্শকমনে কথাটি কড়া তিক্তস্বাদ এনে দিতে পারে। কিন্তু, ইহা খাসা বাস্তব। চলুন, মোসাদ্দেক হোসেনকে দিয়েই শুরু করা যাক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দু দুটো ডাবল সেঞ্চুরি করার পাশাপাশি বল হাতে দারুণ কার্যকর মোসাদ্দেককে শুরুতে টেস্টে সুযোগ দেওয়া হলেও এক সময় তাকে একপ্রকার জোর করে ওয়ানডে এবং টি টুয়েন্টিতে স্পেশালিস্ট ফিনিশার বানিয়ে দেওয়া হলো! এতে একসময় টেস্ট দলে প্রায় ব্রাত্যই হয়ে পড়লেন। ২য় টেস্টে সাকিবের ইঞ্জুরিতে যখন দলে অলরাউন্ডার সংকট, ঠিক সেসময় মাহমুদউল্লাহর ইঞ্জুরিতে মোসাদ্দেক হতে পারতেন দারুণ চয়েজ। অথচ টেস্টের স্কোয়াডেই ছিলেন না তিনি! আর তাইতো টি টেনের সুবাদে বিসিবির ছাড়পত্রে মোসাদ্দেকের অবস্থান সংযুক্ত আরব আমিরাত। 

 

বাধ্য হয়ে দলে ডাক পড়ে সৌম্য সরকারের, যাকে কিনা ওয়ানডেতে ওপেনার থেকে সোজা ফিনিশার বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে! সৌম্য যেখানে পরবর্তী নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য সাদা বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেখানে হুট করে স্কোয়াডের বাইরে থেকে ডেকে এনে ওপেনিংয়ে নামিয়ে দেওয়াটা যে বেশ অযৌক্তিক, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। অথচ তখনও স্কোয়াডে ছিলেন আরেক তরুণ ওপেনার সাইফ হাসান। সাদমানের ইঞ্জুরিতে স্বাভাবিকভাবে সাইফ সুযোগ না পাওয়ায় তার আত্মবিশ্বাস যে টলে যাবেনা, সেটা বলা অসম্ভব৷ 

 

এবার দৃষ্টিটা ঘুরিয়ে আনি জনাব মিথুন আলীর দিকে। আহামরি পারফর্ম না করেও কিভাবে দিনের পর দিন তিনি বাংলাদেশ দলের 'অটোমেটিক চয়েজ' হিসেবে টিকে যাচ্ছেন, তা আজও অজানা। অথচ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০ এর ওপর এভারেজ থাকা সত্ত্বেও দলে ঠাঁই মিলছেনা তরুণ ইয়াসির আলীর! ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম পরীক্ষীত পারফর্মারও তিনি। অথচ 'মিথুন মধুতে' নির্বাচকরা যেন প্রায় অন্ধ। মিথুন সত্যিই এক বিস্ময় বটে! 

 

আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে দলে মাত্র এক পেসার খেলানো যে চরম অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। ঘরের মাটিতে স্পিন ট্র‍্যাক বানিয়ে প্রতিপক্ষকে যে সবসময় ঘায়েল করা যায়না, তা আফগানিস্তান একেবারে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। অথচ একই ফাঁদে বারবার পা দেওয়াটা যেন আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস। এ তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন অপেক্ষাকৃত দূর্বল (?) ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে আমাদের হোয়াইট ওয়াশ হওয়া। বিষয়টা এমন নয় যে, আমাদের পেস বোলার সংকট। মুস্তাফিজ, রাহী, এবাদত, তাসকিন, মাহমুদের মত পেস বোলার যদি দেশের মাটিতেই প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করার সুযোগ না পায়, তাহলে বিদেশের মাটিতে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার সক্ষমতাটুকু প্রমাণ স্রেফ অধরাই রয়ে যাবে। 

 

বাংলাদেশের 'টেস্ট স্পেশালিস্ট' খ্যাত আমাদের কাপ্তান সাহেব, মুমিনুল হককে নিয়ে কিছু না বললেই নয়। ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা কিন্তু ক্যাপ্টেন মুমিনুলের সীমাবদ্ধতা বেশ চোখে পড়ার মতো। অতি রক্ষণাত্মক ফিল্ডিং সাজানো, মুখস্ত ক্যাপ্টেন্সি, বোলিং এ তেমন পরিবর্তন না আনা, জুটি ভাঙ্গায় পার্ট টাইম বোলার না আনা, রিভিউয়ের সঠিক ব্যবহার না করা ইত্যদি মিলিয়ে মুমিনুলকে কখনোই ক্যাপ্টেন্সির দিক থেকে লম্বা রেসের ঘোড়া মনে হয়নি৷ 

 

কাপ্তান যখন কাঠগড়ায়, তখন কোচই বা বাদ থাকবেন কেন? এই লেখকের মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বাজে কোচের অধীনে বর্তমানে রয়েছি আমরা। মনে পড়ে চন্ডিকা হাতুরুসিংহের কথা? বাংলাদেশ ক্রিকেটের কড়া হেডমাস্টার ছিলেন তিনি, যিনি কিনা স্রেফ সামর্থ্য দিয়েই প্রতিটি খেলোয়াড়কে যাচাই করতেন। সিনিয়রদের সঙ্গে সবসময় তার সুসম্পর্ক না থাকলেও তার আমলে বাংলাদেশ ক্রিকেট সোনালী সময়ই পার করেছে। মুদ্রায় হাতুরুসিংহের ঠিক উল্টোপিঠেই অবস্থান বর্তমান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গের। প্রতিপক্ষের শক্তি - দূর্বলতা যাচাই করে তাদের সামনে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার যে মানসিকতা থাকা উচিত, তার ছিঁটেফোঁটাও প্রতীয়মান হয়না ডমিঙ্গো শিষ্যদের পারফরম্যান্সে। হবেই বা কিভাবে? দল হারার সন্নিকটেও যে কোচের মুখে চওড়া হাসির দেখা মিলে, তার কাছে আগ্রাসী মনোভাব আশা করাটাই তো বোকামী। তাকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের 'ভাঁড়' বললেও নেহায়েতই কম বলা হবে।

 

নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে আলাদাভাবে কিছু বলার আছে। বয়সভিত্তিক দলে বারবার নিজেকে প্রমাণ করেই দলে এসেছেন তিনি। ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে রঙ্গিন পোশাকে তাকে ওয়ান ডাউনে থিতু করার প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানানোই যায়। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ব্যর্থ হলেও ভবিষ্যতে তার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বলে সাদা পোশাকে তাকে ওয়ান ডাউনে ঠেলে দেওয়াটা বেশ বোকামি বলেই মনে হয়। কারণ, টেস্ট খেলুড়ে প্রায় প্রতিটি দেশেই এই পজিশনটায় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে ব্যাট করতে দেখা যায়, যিনি ইনিংসকে বড় করতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে মুমিনুল হক দীর্ঘদিন এই পজিশনটি সামলাচ্ছেন এবং এখানেই তিনি ফিট। মুশফিকুর রহিম যেহেতু টেস্টে গ্লাভসজোড়া হাতে নেননা, সেহেতু চার নম্বর  
পজিশনটা তার জন্যই বরাদ্দ থাকা উচিত।

 

ধবলধোলাইয়ের এ সিরিজে আমাদের প্রাপ্তি বলতে লিটন দাস এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটনের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ দলের অন্যতম স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান তিনি, উইকেট কিপিংয়ের হাতটাও দারুণ। তবে নিশ্চুপ লিটনকে স্লেজিংয়ে পরিপক্ক হওয়ার পাশাপাশি রিভিও নেওয়ার ক্ষেত্রে অধিনায়কের প্রতি আরও সাহায্যপ্রবণ হতে হবে। অপরদিকে মেহেদী হাসান মিরাজকে টিম ম্যানেজমেন্ট ধরতে গেলে বোলার হিসেবেই দলে খেলিয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে।  অথচ বয়সভিত্তিক দলে তিনি ছিলেন একজন পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার। দেরিতে হলেও মিরাজ যে ব্যাট হাতে দারুণ নৈপুন্য প্রদর্শন করেছেন, তাতে আশা করি ভবিষ্যতে তাকে আরও উপরে ব্যাট করতে দেখলে অবাক হবেননা। 

 

বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে ক্রমাগত ভরাডুবি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটা উক্তিই বারবার মনে পড়ে - "সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দিব কোথা?" টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির একুশ বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ এখনও এ ফর্ম্যাটে শিশু। সাকিবকে ছাড়া আমরা এখনও কত অসহায়, তা নাঈম-তাইজুল-মিরাজদের মুখস্ত অকার্যকর বোলিং দেখলেই বোঝা যায়। অথচ সাকিবের ক্যারিয়ারের সূর্যটাও প্রায় সায়াহ্নে। ভবিষ্যতের জন্য তার কাছাকাছি মানের বিকল্প যে তৈরি করতে হবে, সেটা বোধহয় আমাদের ক্রিকেট কর্তারা ভুলেই বসে আছেন। এভাবে চলতে থাকলে সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, যেদিন নবাগত আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড টেস্টে আমাদের বলে - কয়ে হারিয়ে দিয়ে যাবে, আমরা পরিণত হব নখদন্তহীন বর্তমান শ্রীলংকা - জিম্বাবুয়ে দলের মতো। পরিশেষে, দেশের মাটিতে এমন ধবলধোলাইয়ের পর ভিরাট কোহলির মত আমাদের মনেও প্রশ্ন জাগে, "বাংলাদেশ কি আদৌ টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা বোঝে?"

  • ট্যাগস

এ বিভাগের আরও নিউজ

টেস্টে দেশের হয়ে প্রথম দশ সেঞ্চুরির কীর্তি

শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, সকাল ১১:১৭

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তান টেস্ট পরিবারের সদস্য হওয়ার আগে বাংলাদেশ ছিল এই সম্ভ্রান্ত পরিবারের নবীনতম সদস্য। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির দুই দশক পেরিয়ে

ক্রিকেট ময়দানে আলোড়িত উপস্থাপিকা

শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, দুপুর ৩:২১

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ একাবিংশ শতাব্দীতে ক্রিকেট শুধুমাত্র মাঠ আর গ্যালারির মাঝেই সীমাবদ্ধ নেই। নানা রংয়ের বাণিজ্যের মোড়লে ক্রিকেট আজ একটি শিল্পের নাম। মাঠ কিংবা মাঠের বাইরে ম্যাচ বিশ

একজন শোয়েব মালিক এবং ক্রিকেট

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১, বিকাল ৪:৩১

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ নব্বই দশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করা খেলোয়াড়েরা প্রায় সবাই ক্রিকেটের পাঠ চুকিয়ে কোচ, আম্পায়ার, ধারাভাষ্যকার কিংবা অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে গেছেন। ব্যতিক্রম, শোয়ে

পিসিএল, ২০২১

ইসলামাবাদ ইউনাইটেড  কোটা গ্ল্যাডিয়েটরস

অস্ট্রেলিয়ার নিউজিল্যান্ড সফর, ২০২১

নিউজিল্যান্ড  অস্ট্রেলিয়া

৩ মার্চ ২০২১, দুপুর ১২ টা

পিসিএল, ২০২১

করাচি কিংস  পেশোয়ার জালমী

পিসিএল, ২০২১

কোটা গ্ল্যাডিয়েটরস  মূলতান সুলতানস

ইংল্যান্ডের ভারত সফর, ২০২১

ভারত  ইংল্যান্ড

৪ মার্চ ২০২১, সকাল ১০টা

পিসিএল, ২০২১

পেশোয়ার জালমী উইকেটে জয়ী

৮ম ম্যাচ, করাচি

পিসিএল, ২০২১

মূলতান সুলতানস উইকেটে জয়ী

৭ম ম্যাচ, করাচি

অস্ট্রেলিয়ার নিউজিল্যান্ড সফর, ২০২১

নিউজিল্যান্ড রানে জয়ী

২য় টি-টুয়েন্টি, ডুনেডিন

পিসিএল, ২০২১

ইসলামাবাদ ইউনাইটেড উইকেটে জয়ী

৬ষ্ঠ ম্যাচ, করাচি

পিসিএল, ২০২১

পেশোয়ার জালমী উইকেটে জয়ী

৫ম ম্যাচ, করাচি

অস্ট্রেলিয়ার নিউজিল্যান্ড সফর, ২০২১

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ -  ৭ মার্চ ২০২১

পিসিএল, ২০২১

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১ -  ২২ মার্চ ২০২১

ইংল্যান্ডের ভারত সফর, ২০২১

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ -  ২৮ মার্চ ২০২১