প্রচ্ছদ / তাসকিন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের আক্ষেপ

তাসকিন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের আক্ষেপ

আরিফুল হক বিজয়ঃ বাংলাদেশের ক্রিকেটে গতির ঝড়টা শুরু হয়েছিলো গোলাম নওশের প্রিন্সকে দিয়ে। এরপর ধুমকেতুর মতো আগমন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। দুরন্ত গতিতে বিরতিহীন ছুটতে গিয়ে লাইনচ্যুত হয়ে ছিটকে পড়তে হয়েছে নড়াইল এক্সপ্রেসকে। গতিতে পড়েছে ভাটা! শেষ ভরসা হয়ে এসেছিলেন রুবেল হোসেন। এরপর সময়ের বিবর্তনে এসেছেন আরো অনেকে। কিন্তু প্রকৃত সেই ফাস্ট বোলার হয়ে উঠতে পারেননি। পারেননি এক্সপ্রেস গতি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দিতে কিংবা ভয়ংকর বাউন্সারে বুঁকে কাপন ধরাতে। লাল সবুজের ছায়াতলে কবে আসবে গতি তারকা? এই প্রশ্নের জবাব এলো স্বয়ং ঢাকার মোহাম্মাদপুর থেকে। জবাবটা দিলেন তাসকিন আহমেদ।

 

খালেদ মাহমুদ সুজনকে বলা হয় জহুরী চোখের অধিকারী। তার ব্যক্তিগত জীবন কিংবা খামখেয়ালী চালচলনের জন্য তাকে হাজারটা দোষ দেয়া যায়, সমালোচনা করা যায়। কিন্তু এদেশের ক্রিকেটে প্রতিভা তুলে আনতে তার অবদান কেউই অস্বীকার করতে পারবে না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের দ্বিতীয় আসর। চট্টগ্রাম শিবিরে নেট বোলারের ভূমিকায় তাসকিন আহমেদ। একদিন নেটে তার বোলিং দেখে চমকে গেলেন সুজন। জহুরী চোখ রত্ম চিনতে ভুল করেনি। ঢাকার এই তরুণ তুর্কীকে নিয়ে বাজিটা ধরেই ফেললেন চট্টগ্রামের কোচ। ব্যস! নেট বোলার থেকে দল অতঃপর পরের ম্যাচেই সরাসরি মাঠে!

 

প্রথমবারের মতো বড় কোনো আসরে মাঠে নামা। খানিকটা চাপ থাকা স্বাভাবিক। তবে তার ছিটেফোঁটাও দেখা গেলো না ঢাকাইয়া এই তরুণের মাঝে। শুরু থেকেই এক্সপ্রেস গতি দিয়ে চোখ ধাঁধানো অতঃপর স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলা। তার গতির কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের তারকাদেরও। বাজিতে জিতে গেলেন সুজন, তাসকিন এলেন পাদপ্রদীপের আলোয়।

 

সেবার ভারত এলো বাংলাদেশ সফরে। লাল সবুজ জার্সিতে অভিষেকের অপেক্ষায় তাসকিন আহমেদ। প্রথমবারের মতো পা রাখলেন জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে। চারপাশে তাকিয়ে একটা সোফা খালি পেয়ে তাতেই বসে পড়লেন। পাশ থেকে রসিকতা করলেন সাকিব আল হাসান, "কার চেয়ারে বসছিস জানিস?"। মাথা নাড়ালেন তাসকিন। যার অর্থ, তিনি জানেন না। সাকিবই জানালেন, চেয়ারটা মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার। উত্তরটা জানার পর উঠে পড়তে চাইলেন তাসকিন। সাকিবই পরে বললেন, "বসছিস যখন বস। মনে রাখবি তার চেয়ারে যখন বসছিস, দায়িত্বটাও তার মতোই পালন করতে হবে"।

 

সাকিব আল হাসান রসিকতা করে বললেও কথাটা মনেপ্রাণে ধারণ করে ফেলেছিলেন তাসকিন আহমেদ। অভিষেক ম্যাচেই গতি দিয়ে নাচিয়ে ছেড়েছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। ধীরে ধীরে তাসকিন হয়ে উঠলেন লাল সবুজের গতি তারকা। হয়ে উঠলেন অধিনায়কের পরম আস্থা আর ভরসার নাম। স্নেহ আর ভালোবাসায় এই তরুণকে আগলে রাখলেন অধিনায়ক মাশরাফীও। তাসকিনে চেয়েই হয়তো নিজের মধুর অতীতে ফিরে যেতেন নড়াইল এক্সপ্রেস। ২০১৫ বিশ্বকাপ, তাসকিন হয়ে উঠলেন তার প্রধান অস্ত্র। গতির ঝড় তুললেন অজিদের গতির স্বর্গে। মাতিয়ে দিলেন কিউইদের সবুজ ঘাসের গতির রাজ্য!

 

এরপরই এলো একরাশ দীর্ঘশ্বাস! বাতাসে বাতাসে সেই দীর্ঘশ্বাস ছড়িয়ে পড়লো বাংলার আকাশে। চলছে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, মাঝপথেই বোলিং অ্যাকশনের জন্য নিষিদ্ধ হলেন তাসকিন। সংবাদ সম্মেলনে চোখের জল ঝরালেন মাশরাফী। তার পেস ভান্ডারের অন্যতম সৈন্যটা যে নাই! হাহাকার করে উঠলো পুরোদেশ। কিন্তু তাসকিন তো দমবার পাত্র নয়! পরীক্ষার রুম, সারা গায়ে আধুনিক যন্ত্র বসানো। টিভিতে ভেসে উঠলো মায়ের কান্নাভেজা চোখ! সকল বাধা বিপত্তি উতরে তাসকিন ফিরলেন বটে। কিন্তু হায়! আগের সেই এক্সপ্রেস গতি কিংবা লাইন লেংথ; কোনোটাই যে আর ফিরলো না! ফিরেনি তবে ফিরবে!

 

এবার শুরু হলো তাসকিনের আরেক লড়াই! তার গন্তব্যের চক্রটা হয়ে গেলো বাড়ি - জিম - মাঠ - বাড়ি। পাল্টে ফেলেন খাদ্য তালিকা। বাড়ির নিচের ফ্লোরে একাকি যে লড়াই শুরু, সে লড়াই চলতে থাকে উত্তপ্ত বালুর খাঁ খাঁ করা প্রান্তরেও। কয়লা ছড়ানো আগুনের উপর দিয়েও হেঁটে যান তাসকিন। তাসকিন ক্লান্ত হয়ে পড়েন কিন্তু দমে যান না। মাশরাফী স্বয়ং যার আইডল। সে দমে যায় কিভাবে? চলতে থাকে তাসকিনের ফেরার লড়াই। ওজন কমিয়ে, বোলিংয়ে শান দিয়ে, লাইন লেংথ শুধরে তাসকিন ফেরেন। আমরা দেখা পাই সেই পুরনো তাসকিনের। স্পিনিং পিচেও তার বল ছোটে উল্কার মতো!

 

পথের সবে শুরু, আরো কত পথ বাকি। তাসকিন কেবল সামনে তাঁকান। পেছনে তাঁকাতে নেই। মধুর অতীত ছেঁয়ে আছে বিষাদের রংয়ে। স্মৃতিদের কখনো কখনো উপেক্ষা করতে হয়। তাসকিন সেটাই করছেন। ফাস্ট বোলারদের নিত্য সঙ্গী ইনজুরি। সেটাকে সঙ্গী করে নিয়তিকে মেনেই ছুটছেন তিনি। ক্যারিয়ার শেষে কোথায় দাঁড়াবেন তা বলা কঠিন। তবে মাশরাফীর সৃষ্টি করা লাল সবুজের গতির রাজ্যে তাসকিন হয়ে আছেন যুদ্ধজয়ী এক রাজপুত্র। তাসকিন হয়ে আছেন আমাদের গতিতারকা। তাসকিনের গতির ঝড় চলতে থাকুক। টান না পড়ুক চেইনে। ছুটে চলুক আমাদের 'ঢাকা এক্সপ্রেস'! শুভ জন্মদিন তাসকিন।

 

- নট আউট / টিএ

  • ট্যাগস

এ বিভাগের আরও নিউজ

সর্বাধিক আইপিএল মাতানো ভিনদেশী পঞ্চপাণ্ডব

মঙ্গলবার, ০৬ এপ্রিল ২০২১, সকাল ১১:৩৮

হাম্মদ আশিক সৈকতঃ আইপিএলকে বলা হয় বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ফ্রাঞ্চাইজি ট্যুর্নামেন্ট। জনপ্রিয় হবেই বা না কেন? বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেটাররা মুখিয়ে থাকেন আইপিএলে ম্যাচ খেলার জন্য। এতে

রকিবুল হাসান এবং একটি 'জয় বাংলা' ব্যাটের গল্প

মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ ২০২১, সকাল ১০:০৯

মুহাম্মদ আশিক সৈকতঃ ১৯৭১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। রুম নম্বর ৭০৭, হোটেল পূর্বাণী। ওপেনার রকিবুল হাসান বসে বসে ভাবছেন আগামীকালের ম্যাচে সুযোগ পাবেন কিনা। উল্লেখ্য, ঢাকায় সেসময় খেলতে এসেছ

ত্রয়ী ফরম্যাটের ফাইফার শিকারীরা

বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১, দুপুর ১২:২৬

দেশের জার্সিতে ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার যেকোন বোলারের জন্যই এক তীব্র বাসনা বা স্বপ্নের জায়গা। আর এ স্বপ্নপূরণ যদি হয় ক্রিকেটের ত্রয়ী সংস্করণেই, তাহলে সে তো সোনায় সোহাগাই বটে। ক্রিকে

পাকিস্তানের দক্ষিন আফ্রিকা সফর, ২০২১

দক্ষিন আফ্রিকা  পাকিস্তান

১৪ এপ্রিল ২০২১, সন্ধ্যা ৬:৩০

আইপিএল, ২০২১

সানরাইজার্স হাইদ্রাবাদ  ব্যাঙ্গালুরো

১৪ এপ্রিল ২০২১, রাত ৮টা

আইপিএল, ২০২১

রাজস্থান রয়েলস  দিল্লী ক্যাপিটালস

১৫ এপ্রিল ২০২১, রাত ৮টা

পাকিস্তানের দক্ষিন আফ্রিকা সফর, ২০২১

দক্ষিন আফ্রিকা  পাকিস্তান

১৬ এপ্রিল ২০২১, সন্ধ্যা ৬:৩০

আইপিএল, ২০২১

পাঞ্জাব কিংস  চেন্নাই সুপার কিংস

১৬ এপ্রিল ২০২১, রাত ৮টা

আইপিএল, ২০২১

দিল্লী ক্যাপিটালস উইকেটে জয়ী

২য় ম্যাচ, মুম্বাই

পাকিস্তানের দক্ষিন আফ্রিকা সফর, ২০২১

পাকিস্তান উইকেটে জয়ী

১ম টি-টুয়েন্টি, জোহানসবার্গ

আইপিএল, ২০২১

ব্যাঙ্গালুরো উইকেটে জয়ী

১ম ম্যাচ, চেন্নাই

পাকিস্তানের দক্ষিন আফ্রিকা সফর, ২০২১

পাকিস্তান ২৮ রানে জয়ী

৩য় ওয়ানডে, সেঞ্চুরিয়ান

পাকিস্তানের দক্ষিন আফ্রিকা সফর, ২০২১

দক্ষিন আফ্রিকা ১৭ রানে জয়ী

২য় ওয়ানডে, জোহানসবার্গ

আইপিএল, ২০২১

৯ এপ্রিল ২০২১ -  ৩০ মে ২০২১

পাকিস্তানের দক্ষিন আফ্রিকা সফর, ২০২১

২ এপ্রিল ২০২১ -  ১৬ এপ্রিল ২০২১